তালাকের পর সন্তান থাকবে কার জিম্মায়, আইন কী বলে?

১৩২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় প্রতিদিন ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে।

ওই হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২০ সালে তালাকের পরিমাণ বেড়েছে।

তবে তালাকের সাথে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি যারা প্রভাবিত হয় তারা হচ্ছে ওই পরিবারের সন্তানরা।

কোনও পরিবারের বাবা-মায়ের মধ্যে তালাক হলেও ওই পরিবারের সন্তানের জিম্মা কার হবে। এ নিয়ে মুসলিম আইনেই বা কী বলা আছে?

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, প্রায় সব ক্ষেত্রে বাবা সন্তানের প্রকৃত আইনগত অভিভাবক। এই আইনের আওতায় সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং জিম্মাদারিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।

তবে সাধারণ ক্ষেত্রে সন্তানের দেখাশুনা, অভিভাবকত্ব এবং ভরণপোষণের বিষয়গুলো অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ এবং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়।

এই আইন অনুযায়ী, অভিভাবক বলতে যে ব্যক্তি কোনও নাবালকের শরীর অথবা সম্পত্তির বা শরীর ও সম্পত্তি উভয়ের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত থাকবে তাকে বুঝাবে।

সন্তান কার জিম্মায় থাকবে?
আইনজীবী মিতি সানজানা বলেন, কোনও দম্পতির মধ্যে তালাক হলে এবং তাদের সন্তান থাকলে ছেলে সন্তানের সাত বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকবে। আইনে এমনটাই বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে মায়ের অধিকার সবার আগে স্বীকৃত।

তবে মুসলিম আইনে মা সন্তানের আইনগত অভিভাবক নন; আইনগত অভিভাবক বাবা। মা শুধু জিম্মাদার বা হেফাজতকারী।

“মা কিন্তু গার্ডিয়ান না, মাকে অভিভাবক হিসেবে ধরা হয় না, মা হচ্ছে বাচ্চার কাস্টোডিয়ান বা হেফাজতকারী।”

তিনি বলেন, ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে যে সাত বছর সে মায়ের কাছে থাকবে তখন সে বাবার সাথে দেখা-সাক্ষাত করতে পারবে।

মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত সে মায়ের হেফাজতে থাকবে। এসময় বাবা তার সাথে দেখা করতে পারবেন।

এই সময়ের পর সন্তানদের তার বাবা চাইলে নিয়ে যেতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট বয়সের পরও সন্তানের জিম্মাদারি যদি কোনও মা রাখতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে আদালতে আবেদন করতে হবে।

মিতি সানজানা বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যে, তালাক হলেও যদি বাবা-মায়ের মধ্যে তেমন সমস্যা বা বিতর্ক না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে সন্তানদেরকে যৌথ হেফাজতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বাবা কিংবা মা দু’জনেই চাইলে সন্তানদের রাখতে পারেন।

“সেক্ষেত্রে হয়তো মায়ের কাছে চার দিন আর বাবার কাছে তিন দিন বা তাদের সুবিধা মতো থাকতে পারে।”

তবে জিম্মাদারি বা হেফাজত নিয়ে যদি বিতর্ক তৈরি হয় তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর অর্থাৎ ছেলে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাত বছর আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও যদি মা নিজের হেফাজতে রাখতে চান, তখন তাকে আলাদাভাবে আদালতে আবেদন করতে হবে।

এ ধরনের আবেদনের পর আদালত যে বিষয়টি বিবেচনায় নেয় সেটি হচ্ছে, সন্তানের কল্যাণের জন্য যেটা সবচেয়ে ভাল, সেটিই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আদালত।

আদালত সাধারণত চায় যে, হেফাজতের ক্ষেত্রে বাবা-মা দু’জনেই থাকুক। তবে ধরে নেয়া হয় যে, মায়ের কাছেই সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ভাল থাকবে।

তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মা যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল না হয়, বা তার যদি আয় না থাকে তাহলে সেটি মামলাকে দুর্বল করে তোলে।

“কোর্ট এখানে অনেক কিছুকে বিবেচনায় নেয়। যেমন ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি সেটা বাবা-মা যার কাছেই থাকুক না কেন, এছাড়া অন্যান্য বিষয় যেমন ড্রাগ ইস্যুও বিবেচনায় নেওয়া হয়,” বলেন মিতি সানজানা।

বাবা-মায়ের মধ্যে যদি কারো বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগ থাকে যেমন মাদকাসক্ত হওয়া কিংবা অপরাধমূলক কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ, তাহলে আদালত কখনওই তার কাছে সন্তানের জিম্মাদারি দিতে চায় না।

“যার কাছে থাকলে সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ হবে তার কাছে থাকারই অনুমোদন দেয় আদালত।”

তবে সন্তান বাবা কিংবা মা- যার সাথেই থাকুক না কেন, অপরপক্ষকে সন্তানের সাথে দেখা করা ও সময় কাটানোর অনুমোদন দেওয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে। তবে এক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে মারাত্মক কোনও অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।

গুরুতর অভিযোগ না থাকলে সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিন দেখা করতে পারে। তবে এটা পরিবার অনুযায়ী আলাদা হয় বলেও জানান আইনজীবী মিতি সানজানা।

তবে দেখা করার অনুমোদন থাকলেও যদি বাবা কিংবা মাকে দেখা করতে না দেওয়া হয় তাহলে যাকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না সে আবার বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে পারেন।

সন্তানের মতামতের সুযোগ আছে কি?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলেন, হেফাজত বা জিম্মাদারি দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের মতামতের গুরুত্ব সবসময়ই থাকে।

তবে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করা হয় বলে জানান মিতি সানজানা।

আর সেকারণেই বাচ্চাদের সম্মতি নেওয়া হলেও আদালত বোঝার চেষ্টা করে যে, সে কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে কিনা।

“পর্যবেক্ষণ করা হয় যে, বাচ্চা নিজের ইচ্ছায় মতামত দিচ্ছে কিনা।”

তবে বাচ্চার মতামতই একমাত্র নয়। জিম্মাদারি নেওয়ার ক্ষেত্রে বাচ্চার মতামত মামলাটিকে শক্তিশালী করলেও এটি ধরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। বরং বাচ্চার মতামতকে একটি এভিডেন্স বা প্রমাণ হিসেবে নেওয়া হয়।

“বাচ্চা যদি বলে যে অমুকের সাথে থাকবো, তার মানে এই না যে তাকে সাথে সাথে থাকতে দেওয়া হচ্ছে,” বলেন মিতি সানজানা।

এর কারণ হচ্ছে, যার সাথে থাকতে চাচ্ছে সে ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করতে পারে, ভয় দেখাতে পারে, তার ভরণপোষণের ক্ষমতা না থাকতে পারে, সে মাদকাসক্ত হতে পারে, তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ থাকতে পারে। এ সমস্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

“তবে যার পক্ষে বাচ্চা বলবে তার পক্ষেই মামলাটি শক্তিশালী হবে। জিম্মাদারি পাওয়ার ক্ষেত্রে দু’পক্ষই টানা-হেঁচড়া করে।”

তবে অনেক সময় বাচ্চার ইচ্ছানুযায়ী, দু’পক্ষকেই তার হেফাজত ও জিম্মাদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy
শীর্ষ সংবাদ
লকডাউনে বিপর্যস্ত দেশের নিম্ন শ্রেণির মানুষেরা।রাজধানীর সড়কে আজ বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা।বরগুনার উপজেলার ২০২১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নব – নির্বাচিত সকল চেয়ারম্যানদেরকে শপথ পাঠলকডাউনে দ্বিতীয় দিনের সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ডকঠোর লকডাউন, বন্ধ সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস। Liveমন্ত্রিপরিষদের প্রথম সদস্য হিসেবে করোনা টিকা নিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আদমেদ পলক।23-01-2020 News Flashtoday news flash১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার নাইকো মামলার অভিযোগ শুনানিউইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে ৩ নতুন মুখপৌর নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্র ক্ষমতাসীনদের দখলে : খন্দকার মোশাররফরোববার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রীকরোনায় আরো ২১ জনের মৃত্যু,নতুন শনাক্ত ৫৭৮