রামমন্দিরের জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

৪,৫৪৫,৫৪৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ইন্দোর, মান্দসৌর, উজ্জয়িনীসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম সমাজের নেতারা অভিযোগ করছেন, রামমন্দিরের চাঁদা তোলার মিছিল ইচ্ছে করে তাদের মহল্লা দিয়ে নিয়ে গিয়ে সংঘাতের প্ররোচনা দেয়া হচ্ছে এবং মসজিদেও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও এই সব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্যের বিজেপি সরকার তা জোরালোভাবে অস্বীকার করছে।

বস্তুত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত হওয়ার পর গত আগস্টেই সেই মন্দিরের ভূমিপূজা সম্পন্ন হয়েছে, এখন চলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেই মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থসংগ্রহের কাজ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো বিভিন্ন সংগঠন বাইক মিছিলের আয়োজন করে মন্দিরের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেও শুরু করেছে।

মধ্যপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই সব মিছিল যখন মুসলিম মহল্লা দিয়ে যাচ্ছিল তখন এলাকাবাসী মিছিল লক্ষ্য করে পাথর বা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে বলে হিন্দুত্ববাদীরা অভিযোগ করছেন।

মুসলিম সমাজের নেতারা পাল্টা বলছেন, মিছিল থেকেই সহিংসতার প্ররোচনা দেয়া হচ্ছে, এমনকী মসজিদের মাথায় উঠে মিনার ভাঙার চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এই ধরনেরই তীব্র সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সাক্ষী ছিল ইন্দোরের কাছে চন্দন খেড়ি গ্রাম।

ওই গ্রামের সরপঞ্চ বা মোড়ল দিলনওয়াজ প্যাটেল বলছিলেন, ‘রামমন্দিরের নামে চাঁদা তোলার মিছিল বের করে আসলে গোটা রাজ্যেই সাম্প্রদায়িক পরিবেশকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এই সব মিছিলের উদ্দেশ্যই হল মুসলিমদের ভয় দেখানো।’

‘বিভিন্ন মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে, অথচ পুলিশ এই সব ঘটনায় শুধু মুসলিমদেরই আটক করছে – হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।’

‘প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে, মসজিদের মাথায় চড়ে মিনার ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা হচ্ছে না।’

একই সময়ে অবিকল প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ এসেছে মান্দসৌর বা উজ্জয়িনী জেলা থেকেও।

মালওয়া অঞ্চলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সোহন বিশ্বকর্মা অবশ্য দাবি করছেন, মুসলিমরা বাড়ির ছাদে আগে থেকেই পাথর জড়ো করে রেখে তাদের বিভিন্ন মিছিলে হামলা চালিয়েছে, আর সেই আক্রমণ ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত।

হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে এই সব ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে – এবং জাতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভি দাবি করেছে, উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই মুসলিম।

ইন্দোর জোনে পুলিশের আইজি যোগেশ দেশমুখ অবশ্য কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

পুলিশের কাছে ধরনা দিতে আসা মুসলিম নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে ও অন্য সম্প্রদায়ে আপনাদের বন্ধুদের কাছে গিয়েও বলুন পুলিশ বিন্দুমাত্র পক্ষপাত দেখাবে না।’

‘দোষীরা সবাই গ্রেফতার হবে। আমাদের চোখে সবাই সমান এবং এটাও মনে রাখতে হবে সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্বও সব ধর্মের লোকেদের, সব নাগরিকের।’

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, দলের এমএলএ আরিফ মাসুদরা অবশ্য অভিযোগ করছেন, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্যেই পরিস্থিতি আরো বিষিয়ে উঠছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান যদিও আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে – ‘তারা যে-ই হোক না কেন’!

তবে রামমন্দিরের জন্য চাঁদা সংগ্রহে যে কোনো বাধা দেয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বিশ্বাস সারং।

তিনি বলছেন, ‘শ্রীরামচন্দ্র আমাদের আরাধ্য, আমাদের মান-সম্মান, জীবন। তার মন্দিরের জন্য অর্থসংগ্রহকে আমি চাঁদা তোলা বলতে রাজি নই, এটা হলো জাতীয় জনজাগরণ।’

‘এক শ’ তিরিশ কোটি ভারতীয়র সবার তো অযোধ্যায় যাওয়া সম্ভব নয়, তারা তো সেই আহুতিতে এভাবেই যোগদান করবেন, তাই না? সেই স্বপ্নে কেউ বাদ সাধতে আসলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।’

ফলে মধ্যপ্রদেশ জুড়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাইক-মিছিল চলছে অব্যাহতভাবেই।

রাজ্যের মুসলিমদের অভিযোগ, সেই সব মিছিল থেকে মুসলিম-বিরোধী স্লোগান, ভয়-দেখানো হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বিরামহীনভাবে।

সূত্র : বিবিসি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy
শীর্ষ সংবাদ
লকডাউনে বিপর্যস্ত দেশের নিম্ন শ্রেণির মানুষেরা।রাজধানীর সড়কে আজ বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা।বরগুনার উপজেলার ২০২১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নব – নির্বাচিত সকল চেয়ারম্যানদেরকে শপথ পাঠলকডাউনে দ্বিতীয় দিনের সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ডকঠোর লকডাউন, বন্ধ সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস। Liveমন্ত্রিপরিষদের প্রথম সদস্য হিসেবে করোনা টিকা নিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আদমেদ পলক।23-01-2020 News Flashtoday news flash১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার নাইকো মামলার অভিযোগ শুনানিউইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে ৩ নতুন মুখপৌর নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্র ক্ষমতাসীনদের দখলে : খন্দকার মোশাররফরোববার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রীকরোনায় আরো ২১ জনের মৃত্যু,নতুন শনাক্ত ৫৭৮